দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।
বাজটে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক। তাই, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীদের স্বনির্ভরতা এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা নিম্নরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, যেমন-কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিদেশ ফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৪ হাজার নারীকে মাসিক ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ অধিকতর শক্তিশালী করা হচ্ছে।
পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ঝুঁকিতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।
/অ